Hetia Anchal Sarbojanin Durgautsob
Joypur, Bankura
হেতিয়া অঞ্চল সার্বজনীন দুর্গাপূজার ইতিহাস বলতে গিয়ে
প্রথমেই আসতে হয় -- কেন এই পূজা? কেন এই উৎসবের আয়োজন। তৎকালীন সমাজ পরিবেশ পরিস্থিতি পারিপার্শ্বিকতায় অনুভূত হয়েছিল এই আয়োজন। মানুষের মধ্যে মেলবন্ধনের প্রয়াসের প্রয়োজন ছিল। ভক্তিরসের প্লাবন দরকার, ঠিক তেমনই আত্মার সঙ্গে আত্মার সম্মিলনও চাই। বিষ-বিষণ্ণতা ভুলে বিচরণ সুন্দরের উপত্যকায়।অন্তরে হর্ষচিত্রের আঁকিবুঁকি।শিউলি-ঝরা শরৎ। নিকানো উঠোনে সোনাঝুরি রোদ।বরণডালা বরণমালা নিয়ে শরণাগত দীনার্ত। হৃৎকমলে ভক্তিশ্লোক।
মার্কন্ডেয় পুরাণ, শ্রী শ্রী চন্ডী,বিষ্ণুপুরাণ, হরিবংশ,দেবীপুরাণ, ভাগবত, মহাভারতের পর্ব, অকালবোধন, মহামায়ার বোধন-- বুকের ভেতর সেইসব ইতিকথা নিয়ে উদ্যোগপুরুষ মহামানব এলেন এগিয়ে--- স্বামী অসীমানন্দ তীর্থ। যশস্বী প্রধান শিক্ষক ছিলেন হেতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের।ত্যাগী সন্ন্যাসী। শিক্ষার গুরুভার সামলে সামাজিক কাজ এবং অনুষ্ঠানে তাঁর উৎসাহ ছিল অপরিসীম। আজ থেকে বহু বর্ষ পূর্বে প্রতিষ্ঠা করেন বা আয়োজন করেন হেতিয়া অঞ্চল সার্বজনীন দুর্গোৎসবের। নিজে আরাধনা আরতি করতেন দেবীর। অনেক স্থানীয় জ্ঞানী ঋদ্ধ মানুষ ছিলেন পাশে এই শুভ উদ্যোগে বা প্রয়াসে। অর্থ দিয়ে শ্রম দিয়ে বহু মানুষ সহযোগিতা করেছিলেন। শুনেছি জেনেছি সেই স্বতঃস্ফূর্ত অংশ নেওয়ার আনন্দময় ইতিহাস। এবারের পূজা সাতান্নতম(৫৭- তম) বর্ষের আয়োজন। এ বড়ো কম গর্বের নয়। ইতিহাস আর অতীত আঁকড়ে এগিয়ে চলা আমাদের --'চরৈবতি' মন্ত্র উচ্চারণে। নবতর পথে আলোকযাত্রায় ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়েই হেতিয়া অঞ্চল সার্বজনীন দুর্গোৎসব।