Suri Chowrangee Sarbojanin Durga Puja
Suri, Birbhum
চৌরঙ্গীর ইতিহাস ও এবারের থিম “বাঙালিয়ানা”
সালটা ১৯৮০। সিউড়ীর একপ্রান্তে একঝাঁক মননশীল যুবক সমাজসেবার অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন চৌরঙ্গী। এটি কলকাতার ব্যস্ত রাজপথ নয়, বরং আর্তমানবতার সেবাই যার প্রধান মন্ত্র। প্রতিষ্ঠার প্রথম দিন থেকেই শারদ উৎসবের মাধ্যমে শহর ও জেলার মানুষের মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে এই সংগঠন। শুধু ধর্মীয় আচার নয়, দর্শনার্থীদের কাছে এর মূল আকর্ষণ দীর্ঘ গবেষণালব্ধ থিম ও শৈল্পিক প্রতিমা।
তাদের নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি এসেছে বহুবার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মান-এ সাতবার জেলার সেরা পূজোর স্বীকৃতি পেয়েছে চৌরঙ্গী। পাশাপাশি অসংখ্য সংবাদমাধ্যম ও বেসরকারি সংস্থার পুরস্কারে ভূষিত হয়ে তাদের এই যাত্রা আরও গৌরবান্বিত হয়েছে।
এবারের থিম—“বাঙালিয়ানা”। ট্যাগলাইন: “আমি বাঙালি, গর্বিত আমি বাঙালি”। বাঙালিয়ানা মানে শুধু আচার-অনুষ্ঠান নয়, বরং এক অনুভূতি। এর ভেতরে রয়েছে সন্ধ্যায় তুলসী তলায় প্রদীপ ও শঙ্খধ্বনি, অষ্টমীর অঞ্জলি, সন্ধ্যার ধুনুচি নাচ, নবমীর আড্ডা কিংবা দশমীর সিঁদুরখেলা। আছে কোজাগরীর পাঁচালী, শান দেওয়া তর্কপ্রবণ আড্ডা, আর রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সত্যজিৎ, ঋত্বিক ঘটক, সুচিত্রা, হেমন্তদের অবদান। বিজ্ঞানেও বাঙালির পরিচয় মেঘনাদ সাহা, জগদীশ বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের মাধ্যমে উজ্জ্বল। মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ, চিংড়ি-ইলিশের দ্বন্দ্ব, পুরুলিয়ার পলাশ বা শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব—সবই বাঙালিয়ানার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বাঙালি হওয়া শুধু জাতিগত পরিচয় নয়; এটি আবেগ, ভালোবাসা ও এক গভীর গর্ব। আচার-আচরণে, মন-প্রাণে বাঙালি হওয়াই প্রকৃত বাঙালিয়ানা।