Taruner Ehobhan
Rampurhat, Birbhum
৬৯ তম বর্ষ রামপুরহাট বীরভূম
১৯৫৭ সালে রামপুরহাট পৌরসভার উদ্যোগে পৌরসভা প্রাঙ্গণে এই পুজো শুরু হয়। তিন বছর পর তারা বন্ধ করলে কিছু পাড়ার তরুণ পুজোর দায়িত্ব নেন। নেতৃত্ব দেন মাস্টারমশাই প্রখ্যাত বিষণ আর চট্টোপাধ্যায়, ব্যবসায়ী কামতা প্রসাদ, অনাথ বন্ধু সাহা, সেনাকর্মী মনোরঞ্জন সাহা ও পিনাকী রঞ্জন সাহা। প্রথম দিকে আলাদা প্যান্ডেল কর্মী ছিল না, শাড়ি কলের পাইপ ও দড়ি দিয়ে নিজেরাই প্যান্ডেল তৈরি করত। সন্ধিপূজায় বন্দুক ফাটানো ছিল নিয়ম; ক্লাব সদস্যের বাড়ির বন্দুক ব্যবহার হতো। অষ্টমীর পূজোতে কাশর, ঘণ্টা ও ঢাক বাজানো হয় না—এটাই ঐতিহ্য।
কিছু তরুণের হাতে শুরু হওয়া এই ক্লাব আজ প্রায় ১৫০ পরিবারের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। প্রতিমা আগের মতো সাবেকি হলেও এখন প্যান্ডেলে থিমের ছোঁয়া রয়েছে। এ বছরের থিম “অগ্নি আখরে”—ভারতভূমি রক্ষায় স্বাধীনতা সংগ্রামী, বিপ্লবী ও বর্তমান ভারতীয় সেনার অবদানের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। মন্ডপ সাজানো হয়েছে ইন্ডিয়া গেটের আদলে, যেখানে ভগৎ সিং, মহাত্মা গান্ধী, ক্ষুদিরামসহ স্বাধীনতার নায়কদের প্রতিকৃতি এবং বর্তমান সেনানায়িকা সোফিয়া কুরেশি, ভূমিকা সিং ও বীরভূমের শহীদ রাজেশ ওরানের স্মৃতি স্থান পেয়েছে। সঙ্গে রয়েছে লালকেল্লা, ভারত মাতার মূর্তি ও জাতীয় পতাকার ছোঁয়া।
এভাবে ভারত স্বাধীন থেকে আজ পর্যন্ত বীর সেনাদের ত্যাগ ও অবদানের প্রতি এই পুজো এক অনন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি।