B2 Central Puja Committee
Durgapur, Paschim Bardhaman
বি-টু সেন্ট্রাল পূজা কমিটি
আমাদের ইতিহাস, আমাদের গর্ব
দুর্গাপুর একদা ছিল শিল্পের প্রাণকেন্দ্র, রানী এলিজাবেথ থেকে ইন্দিরা গান্ধী পর্যন্ত বহু মহারথীর পদচারণায় মুখর। ড. বিধানচন্দ্র রায়ের স্বপ্ননগরী আজও মনে করিয়ে দেয় ইতিহাসের কথা—ভবানী পাঠকের সাহস, ইচ্ছাই ঘোষের দেউল, আর ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বের প্রাচীন নিদর্শন। এই ঐতিহাসিক দুর্গাপুরের বুকে (রাশিয়ান কোলাবোরেশানে তৈরী) এম.এ.এম.সি. কারখানা ও টাউনশীপ ছিল এক বিখ্যাত স্থান—একসময় শিল্পের আলোয় ভরা, কর্মসংস্থানের অশেষ উৎস।
এই টাউনশিপেই ১৯৬৩ সালে আদিবেদি বি-টু বাজারে শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজো। এটি ছিল টাউনশিপের প্রাচীনতম পূজা, যা পরে কেন্দ্রীয় পূজা রূপে বিস্তৃত হয়। এম.এ.এম.সি. কারখানার বিকাশের সঙ্গে টাউনশিপও ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল, কিন্তু ২০০১ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর কারখানার বন্ধ হয়ে যাওয়া যেন সব আনন্দ-আশার অকালমৃত্যু ঘটল। জীবিকার অভাব, দুঃখ আর সংগ্রামের আঁধার নেমে এলো মানুষের জীবনে। এমনকি একদিন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল—“একজনও দর্শনার্থী নেই পূজামণ্ডপে।”
তবুও এই পূজা থামেনি। আজও মা দুর্গা সকলকে সাহস জোগান—পিছিয়ে না পড়ে আবার চেষ্টা করতে, লড়াই করে বাঁচতে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই পূজা আমাদের ঐক্য, সাহস আর ভরসার প্রতীক। আর এই পূজা সম্ভব হয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষের ছোট ছোট অবদান ও বি-টু বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহযোগিতার ফলে দুঃসময়ে যেমন, সুসময়েও তেমন, বি-টু সেন্ট্রাল পূজা কমিটি আমাদের মনের শক্তি, আমাদের আশা—এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
পূজোর থিম - “অসাধারণ শহরের সাধারণ পুজো”