Madhya Kalyanpur Mohila Durgapuja Committee
Asansol, Paschim Bardhaman
মধ্য কল্যানপুরের মহিলা পূজোর ইতিকথা আশ্বিনের বৃষ্টিস্নাত ভোরে যখন শঙ্খধ্বনি আর মহালয়ার চণ্ডীপাঠ ভেসে আসে আকাশ-বাতাসে, তখন বাঙালির মনে শুরু হয় দুর্গাপূজোর আগমনী সুর। কিন্তু ১৯৯৬ সালের আগে মধ্য কল্যানপুরে সেই আনন্দের স্রোত ছিল না। চারদিকে পাড়া-পড়শি পূজোকে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতে উঠলেও আমাদের এলাকায় ছিল নীরবতা-না ছিল মন্ত্রোচ্চারণ, না ছিল ঢাকের বাজনা। এই বঞ্চনা মনকে তীব্রভাবে আঘাত করেছিল। এমতাবস্থায় পাড়ার কিছু দাদা পূজো শুরু করার উদ্যোগ নিলেও প্রশাসনিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। হতাশার আঁধারে ঢেকে গিয়েছিল আমাদের আশা। তখনই এগিয়ে এলেন পাড়ার দিদিরা। তাঁদের দৃঢ় প্রত্যয়, “পুজো আমাদের হবেই।” নারীদের এই একাত্মতার শক্তি যেন নিজেই মাতৃশক্তির প্রতিফলন ছিল। মা দুর্গার কৃপায়, শ্রীমতী তৃপ্তি ব্যানার্জ্জী-বর্তমান সরকারের প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা-তার সহায়তায় পূজোর স্বীকৃতি মেলে। এটি ছিল আমাদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। মাত্র ৫০০০ টাকা সম্বল করে শুরু হয়েছিল সেই প্রথম পূজো। ছোট্ট আয়োজন হলেও উৎসাহে কোনো ঘাটতি ছিল না। পূজার পাঁচদিনে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয় নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে। সপ্তমীর ভোরে নবপত্রিকার স্নান, অষ্টমীর আনন্দ, নবমীতে নর-নারায়ণ সেবা-সবই সকলের হৃদয়কে ভরে তুলত পবিত্রতায়। ত্রিশ বছর আগে যে পূজোর সূচনা হয়েছিল মহিলাদের উদ্যোগে, আজও সেই ভাবধারা অটুট। সমাজের ভালোবাসা, মানুষের সহযোগিতা আর সর্বোপরি মা দুর্গার আশীর্বাদে পূজো আজ ত্রিশ বছরের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ তাঁদের প্রতি, যাঁরা আমাদের