Student Club Sarbojanin Durgotsab Committee (Organisation By Ladies)
Kharagpur, Paschim Medinipur
সে অনেক কাল আগের কথা। সালটা ছিল ১৯৬১। পাড়ার কয়েকজন ডাকাবুকো ছেলেমেয়ে গড়ে তুলল একটি ক্লাব। যেহেতু সবাই ছাত্র-ছাত্রী, নাম দিলে স্টুডেন্টস্' ক্লাব। ঐ বছরই ক্লাবের উদ্যোগে শুরু হল দুর্গাপূজো। ছিল না আর্থিক সচ্ছলতা। ছিল না সরকারি সহায়তা। তবুও তা পাড়ার বুকে মহোৎসব যেন। তারপর হতে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে পূজো আজ ৬৫তম বর্ষে উপনীত। নারীকে আপন ভাগ্য জয় করার অধিকার আমাদের পূজোর মর্মবাণী যেন। তাই মহিলারাই এ পূজোয় অগ্ৰণী ভূমিকা নেন। এ পূজোয় থিম আধুনিকতার ঘেরাটোপে বন্দী নয়। ঐতিহ্যবাহী সাবেক ধারাই এ পূজোর দর্শণে-চিন্তনে সুস্পষ্ট। দুষ্টৈর দমনে নারীশক্তির আরাধনাই এ পূজোর ঐতিহ্যগত চিরন্তন "থিম" । শক্তি -শান্তি-দয়া-মাতৃ-রূপিনী দেবী দুর্গার আবাহন ও আরাধনাই আমাদের দুর্গাপূজোর সনাতন সংস্কৃতি। প্রথম থেকেই এ পূজোর সাথে মানুষের নিবিড় যোগ। মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন ও ঘটস্হাপনা হিল্লোলিত হয়ে ওঠে স্থানীয় মানুষদের উচ্ছ্বসিত যোগদানে। এ দিনটির এক অপরিহার্য অনুষ্ঠান সমাজমুখী প্রকল্পের রূপায়ন। কখনো দুঃস্হ মানুষদের বস্ত্রদান, কখনোবা দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বই-খাতা-পেন-পেনসিল বিতরণ করা হয়। মহাসপ্তমী-অষ্টমী-নবমীতে দেবীর অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধ্যারতি ও প্রতিমা-দর্শনে মানুষের ঢল নামে। মহানবমীর দুপুরে পুষ্পান্ন ও পঞ্চব্যঞ্জন সহ নর-নারায়ণ-সেবা আমাদের পূজোর অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। দশমীতে বেজে ওঠে বিসর্জনের বাজনা। যথাযথ অর্চনা, সিঁদুর খেলা, আশীর্বাদ-প্রার্থনা, প্রতিমা-নিরঞ্জন ও বিজয়ার মহামিলনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় আমাদের দুর্গাপূজো। _______________________