Sishu Uddan Baroyari
Dainhat, Purba Bardhaman
শিশুউদ্যান বারোয়ারি পূজা কমিটি
‘বারো ঘাট তেরো হাট তিন তিনশ্বর / এ কথা যে বলতে পারে তার ইন্দ্রানীতে ঘর’—এই প্রচলিত প্রবাদেই বারঘাট-তেরঘাট পরিচয় লুকিয়ে আছে। প্রাচীন ইন্দ্রানী পরগনার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজস্ব পরিচয় বদল করে আজকের পূব বর্ধমান জেলার ভাগীরথীর তীরবর্তী দাঁইহাট শহর। এই জনপদ শ্রীচৈতন্যের স্মৃতিচিহ্ন বহন করে। দাঁইহাটে রথ উৎসব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এখানকার কৃষ্ণ, কালী ও মহাদেবের উপাসনা প্রাধান্য পায়। দূর্গাপুজোর ইতিহাস যদিও খুব প্রাচীন নয়, তবুও অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি মারাঠা দস্যু ভাস্কর পন্ডিতের আগমন থেকে দাঁইহাটে শিবির তৈরি হয়। সেই সময় থেকে সেনার দূর্গাপ্রতিমার পুজাও শুরু হয়। প্রাচীন দুগাপুজোর সাক্ষী দাঁইহাটের ঐতিহাসিক কাহিনি।
৬০-৭০’র দশকে, পুজার আকর্ষণে একদল যুবক শিশু উদ্যান বারায়ারি থেকে পুজায় অংশ নিতে আসতেন। পরিবারের সঙ্গে চার দিনব্যাপী আনন্দ মেলামেশা হতো। নবমীতে ভোগ বিতরণ, প্রবীণদের তদারকি আর দশমীতে ঢাক-নাচ-গান উৎসব ছিল। জীবনযাত্রার কষ্ট ভুলিয়ে এই উৎসব বারবার নতুন প্রাণে ফিরে আসে। বারায়ার এই ঐতিহ্য বহুকাল ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলতে থাকে।