Sanhati Club Durgapuja Comitee
Mankar, Purba Bardhaman
সংহতি ক্লাব দুর্গাপূজা কমিটি বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা বাঙালির জীবনে শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি এক অসামান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব। শারদীয়ার আকাশে যখন শরতের মেঘ ভেসে যায়, কাশফুল দোলে, তখনই বাঙালি মন উজ্জীবিত হয়ে ওঠে পুজোর আগমনী সুরে। ধর্মীয় তাৎপর্য হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী মহিষাসুর নামক অসুরকে বধ করতে দেবতারা মা দুর্গাকে সৃষ্টি করেছিলেন। তাই দুর্গাপূজা মূলত শুভের জয় আর অশুভের বিনাশের প্রতীক। দেবী দুর্গা নারীশক্তির রূপ—যিনি একদিকে স্নেহময়ী মা, অন্যদিকে দানবনাশিনী শক্তি। সামাজিক দিক পূজার সময় সমাজে এক বিরাট মিলনমেলার আবহ তৈরি হয়। গ্রামে কিংবা শহরে—প্রতিটি মণ্ডপে মানুষের ভিড়, উৎসাহ আর একাত্মতার দৃশ্য চোখে পড়ে। ধনী-গরিব, ছোট-বড়, সব মানুষ এক হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। দুর্গাপূজা তাই সমাজকে একত্রে বাঁধার এক মহাউৎসব। সাংস্কৃতিক তাৎপর্য দুর্গাপূজা বাঙালির শিল্প ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রকাশভূমি। প্রতিমাশিল্পী থেকে আলোকসজ্জার কারিগর—সবার হাতের ছোঁয়ায় মণ্ডপ হয়ে ওঠে শিল্পকর্মের প্রদর্শনী। সংগীত, নৃত্য, নাটক, কবিতা আবৃত্তি—সব মিলিয়ে দুর্গাপূজা হয়ে ওঠে এক বিরাট সাংস্কৃতিক আয়োজন। অর্থনৈতিক গুরুত্ব পূজাকে কেন্দ্র করে বিপুল অর্থনৈতিক কার্যকলাপও ঘটে। নতুন জামাকাপড়, গয়না, বাজার, প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোসজ্জা—সব কিছুই বিপুল মানুষের জীবিকা ও আয়ের সুযোগ তৈরি করে। ফলে দুর্গাপূজা অর্থনীতিতেও এক বিশেষ ভূমিকা রাখে। উপসংহার দুর্গাপূজা বাঙালির কাছে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির প্রাণের উৎসব।