Ghosh Para Sorbojonin Puja Committee
Kurmun, Purba Bardhaman
দুর্গাপূজার সূচনা শ্রীরামচন্দ্রের অকালবোধনের মধ্য দিয়ে হলেও এক সময় এটি ছিল উচ্চবর্ণের একচ্ছত্র অধিকার। নিম্নবর্ণের মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল নিষিদ্ধ। ১৯৭৯ সালে গলসীতে এক বৃদ্ধা দেবীর চরণে নিবেদন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে মর্মাহত হন বর্তমান সংঘের ট্রাস্টের সম্পাদক সুশীল কুন্ডু। তিনি বিবেকানন্দ সংঘের গুরুজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ১৯৮০ সালে গলসী গ্রামে সূচনা করেন প্রথম সর্বজনীন দুর্গোৎসবের। সেই পূজা ছিল জাঁকজমকহীন, কিন্তু অগাধ আন্তরিকতা ও ভক্তিতে পূর্ণ।
আজ ৪৬ বছর পরও বিবেকানন্দ সংঘ সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে সর্বজনীনতার মূলমন্ত্রকে পুজোর থিম হিসেবে ধারণ করেছে। আমরা বিশ্বাস করি—পূজা মানে কেবল আড়ম্বর নয়, বরং প্রত্যেক মানুষের সমান আনন্দ ও অংশগ্রহণ। এই কয়েকটি দিন জাতি, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে সকলে মিলেমিশে মা দুর্গার আরাধনায় মাতোয়ারা হন।
ছোট্ট বাঁশের কাঠামো আর সাধারণ সাজসজ্জা থেকে শুরু করে আজকের সুদৃশ্য প্যান্ডেল—সবকিছুই গড়ে উঠেছে গ্রামের মানুষের ভালোবাসা ও ঐক্যের জোরে। এই দুর্গোৎসব আর কেবল এক মণ্ডপের সীমায় নয়, প্রতিটি ঘরের পূজা হয়ে উঠেছে। তাই আমাদের কাছে উৎসব কেবল দেবীর আবাহন নয়—এটি মানুষের মিলনের উৎসব, ভেদাভেদ ভুলে মানবতার জয়গান।