PALASHTOLI BAZAR DURGA PUJA COMMITTEE
ALIPURDUAR, Alipurduar
স্বাধীনতার পর কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার (তৎকালীন জলপাইগুড়ি) জেলার মধ্যে সীমান্তে খাদ্যশস্য আদানপ্রদানে সরকারী নিষেধাজ্ঞা ছিল দীর্ঘদিন। ওইসময়ে যাদের জমি অপর জেলায় ছিল তারা জমির ফসল ঘরে আনতে গিয়ে পুলিশি হয়রানির শিকার হতেন। জেলা সীমান্তে হাট করতে গিয়েও তারা সমস্যায় পড়তেন। এমনি এক হাটের দিনে, ১৯৭২ সালে শ্যামগঞ্জ হাট থেকে বাড়ি ফেরার সময় পুলিশ ধরে নিয়ে যায় পুর্ব বড় চৌকি নিবাসী দীনেশ্বর দেবনাথের পুত্র কৃষ্ণচন্দ্র দেবনাথকে। পুলিশের গ্রেফতারির অপমানে রাগান্বিত হয়ে কৃষ্ণচন্দ্র দেবনাথ ও তাঁর দাদা নরেনচন্দ্র দেবনাথ সেই বছরেই শ্যামগঞ্জ হাটের বিপরীতে আলিপুরদুয়ার জেলায় পুর্ব বড় চৌকিতে আরেকটি হাট প্রতিষ্ঠা করেন। দুই ভাই হাটের জন্য জমি দান করেন। এলাকাটি তখন বিন্না আর পলাশগাছে পরিপুর্ণ ছিল, যার কারণে হাটের নাম রাখা হয় পলাশতলী হাট। ওই বছর থেকে হাটে দুর্গাপূজাও চালু হয়। প্রথমদিকে খড়ের চালাঘরে মায়ের অধিষ্ঠান ছিল। পরবর্তীতে টিনের চালের ঘর স্থাপন করে হাটকমিটি। বর্তমানে পাকা দালান স্থাপন করা হয়েছে, এবছর ৫৩তম দূর্গোৎসবে পাকা দালানে প্রথম পূজা হবে মায়ের। দূর্গামায়ের পূজা সাবেকি ডাকেরসাজের তিনচালা প্রতিমাতেই করা হয়। এই নিয়মের এখনো ব্যত্যয় ঘটেনি। পূজাতে পলাশতলী ও শ্যামগঞ্জ সংলগ্ন বিশাল এলাকার মানুষ অংশগ্রহণ করে। বৈষ্ণবপাড়া, মন্ডলপাড়া, সাতবাঁকী, ঝাড়পাড়া, ঝাকুয়াপাড়া, বানিয়াপাড়া, মোদকপাড়া, আর্যপাড়া এলাকার মানুষ দূর্গামাতাকে পূজা নিবেদন করে। পূজা উপলক্ষ্যে স্থানীয় সংস্কৃতি নাচ ও গানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।