Durgapur Bandhu Mahal Club
Sarapul, North 24 Paraganas
১৯৫৬ সালের আশেপাশে, আমি (জগদীশ হালদার) বিমল, অনিল এবং অনন্তসহ ইচ্ছামতী নদীর পাড়ে বসে, নিমাই ঠাকুরের কাছে দুর্গাপূজার পৌরাণিক কাহিনী শুনছিলাম। তিনি আমাদের সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বললেন, পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী রামচন্দ্র রাবণবধের জন্য দুর্গতিনাশিনী রূপের পূজা করেছিলেন, যেটি ‘অকাল বোধন’ নামে পরিচিত। এই থেকে দুর্গাপূজার সূচনা, যা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং সার্বজনীন রূপ লাভ করে। কাহিনীটি শোনার পর আমরা মুগ্ধ হলাম এবং সিদ্ধান্ত নিলাম, দূর্গাপুর দক্ষিণপাড়ায় দুর্গাপূজা আয়োজন করব। ইচ্ছামতী নদীর তীরে বাঁশ বাগানের পাশের ফাঁকা জায়গায় পূজামণ্ডপ তৈরির সিদ্ধান্ত নিলাম। পাড়ার মানুষ যখন আমাদের পরিকল্পনা জানলেন, তাদের আনন্দের সীমা রইল না। সবাই একযোগে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিল। গ্রামের মোড়ল হরিনাথ হালদার সেবার প্রতিমার দাম ২০১ টাকা দিয়েছিলেন, এবং সনাতন হালদার বাঁশ ও কুঞ্চি দান করার প্রতিশ্রুতি দেন। পাড়ার দর্জিকাকু খগেন হালদার বিভিন্ন রঙের কাপড় দিয়ে মণ্ডপ সজ্জিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। মহিলারা গোবর-ঝাঁট দিয়ে মণ্ডপ ও প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করে ফেলে। ১৯৫৬ সালের ৩রা অক্টোবর পাড়ার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিমা মণ্ডপে প্রবেশ করে। ঢাকের বাদ্যিতে পূজা শুরু হয়, এবং ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী সবকিছুই পাড়া প্রথা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়। গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন অনুভব করে। মনে পড়ে, পাড়ার মুসলিম ভাইবোনরা—মহসিন, জুব্বর, হানিম, জুলেখা এবং অন্যান্যরা—আমাদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠে।