BANITIRTHA CLUB
COOCHBEHAR, Coochbehar
এসো মা বিজয়িনী মা এসো এসো ফিরে আসন পাতি রেখেছি হিয়ার গভীরে --- মা আসছেন। আকাশে তুলোর মেঘ। বাতাসে কাশফুলের দোলা। ভোরের কুয়াশা আর শিউলির গন্ধ জানান দিচ্ছে মা আসছেন। কোনো এক মেঠো পথে কাশফুলের দোলা আর পুকুর ঘাটের জলে ঢাকের প্রতিধ্বনিতে যে পুজোর সূচনা হয়েছিল আজ থেকে ৭৫ বছর আগে আজ তা সার্বজনীন হয়ে ৭৬ তম। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঝলমলে প্যান্ডেল, ক্যামেরাবন্দী চিরাচরিত মায়ের দশভুজার মহিষাসুরমর্দিনীর রূপ, ঢাকের শব্দে নাচের সুর -তাল-ছন্দ , সমাজিক ও সাংস্কৃতিক মহামিলনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে আবালবৃদ্ধবনিতা। মা আসছেন। কোচবিহার বাণীতীর্থ ক্লাবের পূজোর সৃষ্টির ইতিহাস জুড়ে আছে কোচবিহার জেলার বাবুরহাট সংলগ্ন রামকৃষ্ণ আশ্রম।আশ্রমের মহারাজাদের দ্বারাই এই পুজো প্রথম অনুষ্ঠিত হয়।পরবর্তীকালে এই পূজা বাবুরহাটে এক বছরের জন্য স্থানান্তরিত হলেও তারপর পাকাপাকিভাবে এটি চলে আসে রাজেন তেপথিতে। "জনমঙ্গল সমিতি"- সদস্যরা পুজোটি তখন পরিচালনা করতে থাকেন। সমিতির কেউই অবশ্য আজ বেঁচে নেই। তারই ধারক ও বাহক হিসেবে বর্তমান প্রজন্ম এই দুর্গোৎসব পালন করে চলেছে। "আলোর খোঁজে" এই ভাবনা নিয়ে এবারের মন্ডপসজ্জা। এই আলো প্রতীকী। এই আলো বোধের আলো। শিক্ষার আলো। জ্ঞানের আলো।হতাশায় নিমজ্জিত সমাজের মুক্তির আলো।অজ্ঞতা, কুসংস্কার, একাকিত্ব,হতাশা , বৈষম্য, বিভেদ থেকে মুক্তি পাবার আলো। এই আলোয় সবার মনে বোধের উদয় হোক। ঋণাত্মক সব ভাবনা কেটে আলোর পথ সুগম হোক। সমস্ত সংকীর্ণতা থেকে "মা " আমাদের মুক্ত করুক।