VIVEKANANDA SHAKTI SANGHA
HASNABAD, North 24 Paraganas
হাসনাবাদ , ঘোষপাড়ার দুর্গোৎসবের সূচনা হয়েছিল ১৯৭৫ সালে, খড়ের চালের নিচে পাড়ারই এক মৃতশিল্পীর হাতে গড়া প্রতিমা দিয়ে। সেই প্রথম জগৎজননী মহামায়ার আরাধনার পর থেকে অর্ধশতক কেটে গেছে। বছরের পর বছর পূজোর জাঁকজমক, আয়োজন ও পরিধি বৃদ্ধি পেলেও অপরিবর্তিত থেকেছে একটিই জিনিস—‘আনন্দ’। মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী শুনলেই মন বলে ওঠে—“পুজো এসে গেছে।” আর পুজো মানেই আনন্দ, যা ভাগ করে নিলে বহুগুণে বেড়ে যায়।
পঞ্চমী থেকেই পাড়ার মহিলারা একসাথে পূজোর প্রস্তুতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন, আর চাঁদা তোলার দায়িত্ব নেন পুরুষেরা। এখানে নেই কোনো সাম্প্রদায়িক বিভাজন, আছে কেবল একাত্মতার বাঁধন। ষষ্ঠীতে প্রতিমা মণ্ডপে আসার পর শুরু হয় আমাদের আনন্দযাত্রা। পূজোর দিনগুলো ভরে ওঠে আরতি, বস্ত্রদান, বৃক্ষরোপণ, নাচ, গান, প্রতিযোগিতা, খাওয়া-দাওয়া আর অবিরাম আড্ডায়। দশমীর সিঁদুরখেলা ও ইছামতীর বুকে বিসর্জনের মুহূর্ত যেন আবার নতুন করে প্রত্যাশা জাগায়—“মা তুমি আবার এসো।”
এই বছর আমাদের বিবেকানন্দ শক্তি সংঘের পূজো ৫০ বছরে পা দিল। তাই প্যান্ডেলের থিমে আমরা দেখাব পঞ্চাশ বছরের ঐতিহাসিক যাত্রা—কীভাবে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ দূর করে আমরা আনন্দকে কেন্দ্র করে ঐক্য গড়েছি। ধর্মীয় আচার থেকে উৎসব হয়ে ওঠা এই আয়োজন আজ আমাদের সম্প্রদায়ের চেতনার প্রতীক। পঞ্চাশ বছরের ভক্তির আলোয় আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছি, যেখানে এই পূজো আগামী প্রজন্মের জন্য ঐতিহ্য ও একতার আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।