HarIpur sarbojonin durgautsab
ARAIDANGA, Maldah
বহু বছর আগে হরিপুর বাজারের কিছু প্রবীণ মানুষ—মুজিবর সবজী, প্রকাশ মণ্ডল ও আদর সুদাম মণ্ডল—স্ট্যান্ডের বটতলায় বৈঠকে বসে স্বপ্ন দেখলেন, “মা দুর্গাকে আমাদের হরিপুর বাজারে আনবই।” সেই স্বপ্ন থেকেই শুরু হয় সার্বজনীন দুর্গাপূজা। আজও এই পূজা হিন্দু-মুসলিম, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলকে একত্র করে, মিলন আর সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সংগ্রামের গল্প শুরুতে জায়গা-টাকা কিছুই ছিল না, ছিল শুধু একতা আর ইচ্ছে। সবার সহযোগিতায় গড়ে ওঠে প্রথম প্যান্ডেল, প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয় হরিপুরের দুর্গাপূজা, যেখানে শিশু থেকে বৃদ্ধা—সবাই মিলেছিল একসাথে। ঢাকের বাদ্যি বাজত, ধুনুচি নাচ হতো, আর ভোর থেকে রাত পর্যন্ত গীতা ও মনের আকাশ ভেসে যেত একটাই ধ্বনিতে— “জয় মা দুর্গা।” হরিপুর বাজারের দুর্গাপূজা বছর ঘুরতে ঘুরতে ক্রমে বড় ও সমৃদ্ধ হয়েছে। ফাঁকা জমির উপর গড়ে উঠেছে আজকের সুন্দর মন্দির। সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে পুজোর রূপ আজ হরিপুর সর্বজনীন দুর্গোৎসব শুধু পুজো নয়, এটি ঐতিহ্য, স্মৃতি ও গর্বের ইতিহাস, যা প্রতি বছর নতুন করে ফিরে আসে। হরিপুর সর্বজনীন দুর্গা উৎসব কমিটি এবারে প্যান্ডেল সাজাচ্ছে প্রাকৃতিক উপকরণ ও পরিবেশবান্ধব সাজসজ্জায়। থিমে থাকছে সেভ ড্রাইভ সেভ লাইফ ও নির্মল ভারত বার্তা। পুরো এলাকা আলোকিত হবে ডিজিটাল এলইডি ও ঝুলন্ত লেজার লাইটে, প্রবেশপথ থেকে মন্দির ও চারপাশের রাস্তা-গাছ সবই আলোর ঝলকানিতে উৎসবকে করবে আলোকময়। দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ মন্দিরের ভিতরে বা বাইরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ।